গৌড়মতি আম বাংলাদেশের একটি নতুন এবং সম্ভাবনাময় জাতের আম।
এই আমের কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো:
উৎপত্তি:
- এই আমটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়।
- কৃষিবিদদের ধারণা, আশ্বিনা ও ল্যাংড়া আমের প্রাকৃতিক পরাগায়নের মাধ্যমে এই নতুন জাতের উৎপত্তি হয়েছে।
- প্রাচীন গৌড় রাজ্যের সোনা মসজিদ এলাকায় এই আমের জাতটি খুঁজে পান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
- বৈশিষ্ট্য:এটি নাবি জাতের আম, অর্থাৎ মৌসুমের শেষে পাকে।
- আমটি মিষ্টি, সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত।
- এর মিষ্টতার পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ।
- গৌড়মতির ভক্ষণযোগ্য অংশ প্রায় ৯৩ শতাংশ।
- এর খোসা ও আঁটি পাতলা।
- পাকা আমের রং হলুদাভ এবং সিঁদুরে রঙের মিশ্রণ দেখা যায়।প্রতিটি আমের গড় ওজন ২৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
- এই আমটি ল্যাংড়া বা ক্ষিরসাপাত অর্থাৎ হিমসাগরের চেয়ে ১৭-২০ % বেশি মিষ্টউৎপাদন ও প্রাপ্যতা:এই আম আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত পাকে।
- সাধারণত ৩ বছর বয়সের চারা গাছে ফল ধরে থাকে।
- এটি উচ্চ ফলনশীল এবং প্রতি বছর গাছে ফল ধরে।
- এই আমটি বর্তমানে রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হচ্ছে।
আম সাধারণত গ্রীষ্মকালীন একটি ফল। মুখরোচক ফল হিসেবে আম কিন্তু অনেক জনপ্রিয় একটি ফল। স্বাদের দিক বিবেচনা করলে আম কাঁচা অবস্থায় টক এবং পাকা অবস্থায় প্রচুর মিষ্টি হয়ে থাকে। আম খেলে অনেক ধরণের উপকারিতা পাওয়া আমে রয়েছে নানা ধরনের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। তাছাড়াও আমে রয়েছে কোয়েরসেটিন, আইসোকোয়েরসেটিন,অ্যাস্ট্রাগ্যালিন, ফাইসেটিন, গ্যালিক এসিড ইত্যাদি। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো মানুষের শরীরের প্রোস্টেট ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ইত্যাদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে। তাই ক্যান্সার নিরাময়ে আম গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। যায়।