ক্রিম মধু কি?
ক্রিস্টাল/ক্রিম হানি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক মধু। তরল মধুর মতোই ক্রিস্টাল/ক্রিম হানিতে পুষ্টিগুণ বিদ্যমান। ক্রিস্টাল/ক্রিম হানি অন্যান্য মধুর তুলনায় অধিক মিষ্টি স্বাদের এবং কিছুটা ঝাঁজালো ঘ্রাণ যুক্ত হয়। শীত পরবর্তী গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে ক্রিস্টাল হানি আংশিক বা সম্পূর্ণ তরল হতে পারে।মধু হলো লাখ লাখ মৌমাছির অক্লান্ত শ্রম আর সেবাব্রতী জীবনের দান। মৌমাছিরা ফুলে ফুলে বিচরণ করে ফুলের রেণু ও মিষ্টি রস সংগ্রহ করে পাকস্থলীতে রাখে। তারপর সেখানে মৌমাছির মুখ নিঃসৃত লালা মিশ্রিত হয়ে রাসায়নিক জটিল বিক্রিয়ায় মধু তৈরি হয়। এরপর মুখ হতে মৌচাকের প্রকোষ্ঠে জমা করা হয়।
খাদ্য ও ঋতুর বিভিন্নতার কারণে মধুর রঙ বিভিন্ন হয়ে থাকে। এ কারণেই কোন বিশেষ অঞ্চলে কোন বিশেষ ফল-ফুলের প্রাচুর্য থাকলে সেই এলাকার মধুতে তার প্রভাব ও স্বাদ অবশ্যই পরিলক্ষিত হয়। এছাড়া তাপমাত্রা,আদ্রতা ও সময়ের হেরফেরের কারণে মধু জমাট বাধতে পারে। কোনো কোনো সময় মধু ক্রিম আবার কখনও আবার ক্রিস্টালাইজড হতে পারে।
নাটোর শপ এর মধুর গুণাগুণ ও উপকারিতাঃ
- শক্তি প্রদায়ী: মধু ভালো শক্তি প্রদায়ী খাদ্য। তাপ ও শক্তির ভালো উৎস। মধু দেহে তাপ ও শক্তি জুগিয়ে শরীরকে সুস্থ রাখে।
- হজমে সহায়তা: এতে যে শর্করা থাকে, তা সহজেই হজম হয়। কারণ, এতে যে ডেক্সট্রিন থাকে, তা সরাসরি রক্তে প্রবেশ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে ক্রিয়া করে। পেটরোগা মানুষের জন্য মধু বিশেষ উপকারী।
- কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: মধুতে রয়েছে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স। এটি ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ১ চা–চামচ খাঁটি মধু ভোরবেলা পান করলে কোষ্ঠবদ্ধতা এবং অম্লত্ব দূর হয়।
- রক্তশূন্যতায়: মধু রক্তের হিমোগ্লোবিন গঠনে সহায়তা করে বলে এটি রক্তশূন্যতায় বেশ ফলদায়ক। কারণ, এতে থাকে খুব বেশি পরিমাণে কপার, লৌহ ও ম্যাঙ্গানিজ।
- ফুসফুসের যাবতীয় রোগ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে: বলা হয়, ফুসফুসের যাবতীয় রোগে মধু উপকারী। যদি একজন অ্যাজমা (শ্বাসকষ্ট) রোগীর নাকের কাছে মধু ধরে শ্বাস টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সে স্বাভাবিক এবং গভীরভাবে শ্বাস টেনে নিতে পারবে। অনেকে মনে করে, এক বছরের পুরোনো মধু শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য বেশ ভালো।
- অনিদ্রায়: মধু অনিদ্রার ভালো ওষুধ। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস পানির সঙ্গে দুই চা–চামচ মধু মিশিয়ে খেলে এটি গভীর ঘুম ও সম্মোহনের কাজ করে।
- যৌন দুর্বলতায়: পুরুষদের মধ্যে যাঁদের যৌন দুর্বলতা রয়েছে, তাঁরা যদি প্রতিদিন মধু ও ছোলা মিশিয়ে খান, তাহলে বেশ উপকার পাবেন।
- প্রশান্তিদায়ক পানীয়: হালকা গরম দুধের সঙ্গে মিশ্রিত মধু একটি প্রশান্তিদায়ক পানীয়।
- মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায়: মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষায় মধু ব্যবহৃত হয়। এটা দাঁতের ওপর ব্যবহার করলে দাঁতের ক্ষয়রোধ করে। দাঁতে পাথর জমাট বাঁধা রোধ করে এবং দাঁত পড়ে যাওয়াকে বিলম্বিত করে। মধু রক্তনালিকে সম্প্রসারিত করে দাঁতের মাড়ির স্বাস্থ্য রক্ষা করে। যদি মুখের ঘায়ের জন্য গর্ত হয়, এটি সেই গর্ত ভরাট করতে সাহায্য করে এবং সেখানে পুঁজ জমতে দেয় না। মধু মিশ্রিত পানি দিয়ে গড়গড়া করলে মাড়ির প্রদাহ দূর হয়।
- পাকস্থলীর সুস্থতায়: মধু পাকস্থলীর কাজকে জোরালো করে এবং হজমের গোলমাল দূর করে। এর ব্যবহার হাইড্রোক্রলিক অ্যাসিড ক্ষরণ কমিয়ে দেয় বলে অরুচি, বমিভাব, বুকজ্বালা এগুলো দূর করা সম্ভব হয়।
সব মৌসুমের খাঁটি মধুতেই রয়েছে প্রায় সমান গুণাগুণ৷ মৌসুম ভেদে মধুর স্বাদ, ঘ্রাণ এবং ঘনত্বের পরিবর্তন হয় সাধারণত ৷ কিন্তু বাজারে পাওয়া যায় এমন সব ধরণের মধুই আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারে আসবে না । খোলা বাজারে যে সমস্ত মধু পাওয়া যায় তার অধিকাংশই ভেজাল অথবা নকল ৷ আবার কমার্শিয়াল হানিগুলো সাধারণত মেশিনের মাধ্যমে প্রসেস করে বাজারজাতকরণ হয়ে থাকে, এর ফলে মধুর প্রাকৃতিক গুনাগুণ হ্রাস প। আর আমরা সবাই জানি, মধু আমাদের জন্য যেমন খুবই উপকারী তেমনি ভেজাল বা নকল মধু আমাদের শরীরের জন্য ততটাই অপকারী ।তাই সবসময় চেষ্টা করবেন প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ভাল মানের RAW মধু পান করতে, এতে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। আর মধু যত টাটকা খেয়ে নেয়া যায় ততই ভাল।